ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে চলা শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় পাকিস্তান ত্যাগ করছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
পাকিস্তানভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সময় রোববার সকাল ৭টা ৮ মিনিটে (জিএমটি ২টা ৮ মিনিট) ভ্যান্স ‘এয়ারফোর্স টু’ উড়োজাহাজে চড়েন। উড়োজাহাজে ওঠার সময় সিঁড়ির ওপর থেকে তিনি দায়িত্বরত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান। এরপর তাকে নিয়ে উড়াল দেয় বিমান।
অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত’ চাহিদার কারণে চুক্তিটি সফল হতে পারেনি।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক শেষে ভ্যান্স সাংবাদিকদের জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। তিনি এখনও ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবটি বিবেচনা করার জন্য সময় দিচ্ছেন। এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, আলোচনার সুযোগ দিতে তারা ইরানে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখবে।
তিনি বলেন, আমরা এখান থেকে একটি অত্যন্ত সহজ প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছি। এটি আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন দেখার বিষয়, ইরান এটি গ্রহণ করে কি না।
মূলত বিরোধটি ছিল পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে। ইরান জোর দিয়ে বলে আসছে যে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বলছে, ইরান সেই সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে।
এই প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধে এবং এর আগের বছরেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
ভ্যান্স বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে এমন একটি প্রতিশ্রুতি ইরানের কাছ থেকে দেখতে চাই যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না এবং এমন কোনো উপায় বা প্রযুক্তিও অর্জন করবে না, যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম করে।
তবে এদিন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে কোনো মতবিরোধের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেননি ভ্যান্স। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়।
ভ্যান্স বলেন, আমি মনে করি, আমরা বেশ নমনীয় ছিলাম। আমরা যথেষ্ট সহযোগিতাপূর্ণ ছিলাম। প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছিলেন, আপনাদের এখানে সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করতে হবে এবং একটি চুক্তি করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা তা-ই করছিলাম এবং দুর্ভাগ্যবশত, আমরা কোনো অগ্রগতি করতে পারিনি।
ইসলামাবাদের এই আলোচনা ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম সরাসরি মার্কিন-ইরান বৈঠক এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।
এই আলোচনার ফলাফল ভঙ্গুর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ভাগ্য এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করতে পারে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বন্ধ করে রেখেছে। এই সংঘাতের ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব