আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় ইসরায়েলের আরোপিত অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে মানবিক সহায়তা বহনকারী একটি নৌবহর (ফ্লোটিলা) স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, রোববার (১২ এপ্রিল) ভূমধ্যসাগরীয় শহর বার্সেলোনা থেকে ৩৯টি নৌযান একসঙ্গে যাত্রা করার কথা রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পথে আরও কিছু জাহাজ এই বহরে যোগ দেবে, যেগুলোতে চিকিৎসা সামগ্রীসহ জরুরি সহায়তা থাকবে।
ফ্লোটিলার সংগঠক কমিটির সদস্য থিয়াগো অ্যাভিলা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে বহরটি প্রথমে অন্য একটি বন্দরে যাবে, এরপর আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রবেশ করে গাজার দিকে অগ্রসর হবে।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে একই সংগঠনের উদ্যোগে গাজাগামী একটি ফ্লোটিলা ইসরায়েলি বাহিনী আটকে দেয়। সে সময় সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ৪৫০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারীকে আটক করা হয়।
গাজা উপত্যকায় প্রবেশের সব পথ নিয়ন্ত্রণ করে ইসরায়েল। দেশটি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ২০ লাখের বেশি বাসিন্দার জন্য তারা সহায়তা আটকে রাখছে না। তবে ফিলিস্তিনি বাসিন্দা এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা এখনো অনেক কম পৌঁছাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সশস্ত্র সংঘাত চলাকালেও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব রয়েছে যেন মানুষ নিরাপদে চিকিৎসা সেবা পেতে পারে।
ফ্লোটিলার আয়োজক কমিটির সদস্য এবং ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী সাইফ আবুকেশাক বলেন, এই মিশনের লক্ষ্য হলো একটি মানবিক করিডর খুলে দেওয়া, যাতে ত্রাণ সংস্থাগুলো সহজে সহায়তা পৌঁছাতে পারে।
এদিকে, জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এ অভিনয় করা অভিনেতা লিয়াম কানিংহ্যাম, যিনি এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন, বলেন এই জাহাজগুলোতে থাকা প্রতিটি কেজি সহায়তা প্রমাণ করে যে সরকারগুলো তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
গত বছরের ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া সুইস ও স্প্যানিশ কর্মীরা অভিযোগ করেছিলেন, আটক অবস্থায় তাদের অমানবিক আচরণের শিকার হতে হয়েছে। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি