রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে ইনস্টাগ্রাম মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েলবিং রিসার্চ সেন্টার পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বখ্যাত ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট-এর অংশ হিসেবে। এতে বলা হয়েছে, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার) এবং টিকটক-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের মানসিক সুস্থতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, বিশেষ করে ভিজ্যুয়াল-কেন্দ্রিক প্ল্যাটফর্ম যেমন ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে থাকা কনটেন্ট ব্যবহারকারীদের মানসিক চাপ বাড়ায়। এসব প্ল্যাটফর্মে অন্যদের জীবনযাপন, সাফল্য বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের তুলনা করতে গিয়ে অনেকেই হতাশা ও উদ্বেগে ভোগেন।
অন্যদিকে, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব অ্যাপ ব্যবহারে ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে কম মানসিক চাপে থাকেন এবং সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখার কারণে ভালো অনুভব করেন। বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপকে সবচেয়ে কম নেতিবাচক প্রভাব ফেলা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকরা ল্যাটিন আমেরিকার প্রায় ১৭টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল পেয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ইনফ্লুয়েন্সারদের তৈরি কনটেন্টের আধিক্য ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে মানসিক চাপ বাড়ানোর একটি বড় কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রলিং বা ‘ডুম স্ক্রলিং’ মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে এবং উদ্বেগ বাড়ায়।
তাই মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম