পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: পঞ্চগড় জেলার ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘী প্রাঙ্গণে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য “বৈশাখী মেলা ১৪৩৩”। ১ নম্বর অমরখানা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলাটি বর্তমানে স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মেলার প্রথম দিনেই দিঘী চত্বরে দর্শনার্থীদের ঢল নামে।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপাদানে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন। শিশুদের জন্য নাগরদোলা, সার্কাস, জাদু প্রদর্শনী এবং রোমাঞ্চপ্রিয়দের জন্য ‘ভূতের বাড়ি’ মেলায় বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। এছাড়া কাঠের খেলনা, মাটির তৈজসপত্র, বাহারি সাজসজ্জার দোকান এবং বৈশাখী মিষ্টির স্টলগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
মেলা কমিটির পরিচালক এবং ১ নম্বর অমরখানা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু মায়েদ সরকার মুকুট জানান, এলাকার মানুষের মাঝে বৈশাখী আনন্দ ছড়িয়ে দিতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মেলার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, “এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন। মেলাটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সর্বোচ্চ নজরদারি রাখছি।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে এসআই তৈয়ব আলী সরকার জানান, মেলার সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও থেকে সপরিবারে আসা পর্যটক আলম বলেন, “এত বড় পরিসরে সুন্দর মেলা দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। পরিবারের সবাই মিলে আনন্দ করছি।” তেঁতুলিয়া থেকে আসা ইয়াসমিন আক্তারও মেলার পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
মহারাজার দিঘীর এই বৈশাখী মেলা আরও দুই দিন চলবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য এই মেলা কেবল বিনোদনের উৎস নয়, বরং ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন