আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রয়োজনে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি খাতে হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত,এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ-অবরোধ চালাচ্ছে, সেটি মূলত ভদ্র আচরণের অংশমাত্র। প্রয়োজনে এর চেয়েও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন বাহিনী।
হেগসেথ বলেন, আমরা আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী সক্ষমতা ও উন্নত গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছি। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ও জ্বালানি খাত আমাদের লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে। আমরা চাই না সেখানে হামলা করতে, তবে প্রয়োজনে তা করা হবে।
আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় আলোচনার আগে ইরানকে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও অন্যদিকে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এই অবরোধ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ, বিমান এবং প্রায় ১০ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই চাপের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধ বন্ধের শর্ত মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা,যেখানে দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয়ে থাকে।
এই যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে ইতিহাসের অন্যতম বড় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সর্বোচ্চ দুই মাস পর্যন্ত তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও টিকে থাকতে পারবে; এরপর উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক কৌশল ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
একই ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন বলেন, “যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার জন্য আমরা প্রস্তুত।
তিনি আরও জানান, ইরানের পতাকাবাহী বা ইরানকে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে এমন যেকোনো জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী তাড়া করবে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, প্রয়োজনে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল পর্যন্ত এই নজরদারি বিস্তৃত হতে পারে।
অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে প্রথমে সতর্ক করা হবে। নির্দেশ অমান্য করলে বলপ্রয়োগ করা হবে। এ ধরনের অভিযান ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা ও আন্তর্জাতিক জলসীমা উভয় স্থানেই চালানো হতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজে সরাসরি অভিযান চালানো হয়নি বলে জানান তিনি।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র অবরোধের পরিধি বাড়িয়ে তথাকথিত ‘নিষিদ্ধ পণ্য’ বহনকারী জাহাজগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। এসব জাহাজে তল্লাশি, জব্দ কিংবা আটক করার অধিকার প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।
নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় রয়েছে অস্ত্র, গোলাবারুদ, পারমাণবিক উপকরণ, অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলজাত পণ্য, লোহা, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম।
অন্যদিকে, তেহরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলে ওমান উপকূলীয় অংশ দিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিতে পারে ইরান যাতে নতুন করে সংঘাত না বাড়ে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি