মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের বার্থা গ্রামে রিকশাচালক মো. জুসন হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. জুলহাস হোসেনকে (২৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহত জুসন সদর উপজেলার দেড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। জীবিকার জন্য তিনি রিকশা চালাতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল দুপুরের দিকে বার্থা গ্রামের রাস্তার পাশে একটি ঝোপের নিচে জুসনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে ঢাকার একটি স্থান থেকে জুলহাসকে আটক করা হয়। তিনি দেড়গ্রাম এলাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুলহাস হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল রাতে বিকাশে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলে জুসনের রিকশা ভাড়া নেয় সে। এরপর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করার এক পর্যায়ে ভাড়া নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। জুসন ভাড়া হিসেবে ৮০০ টাকা দাবি করলে জুলহাস ২০০ টাকা দিতে চায়।
এ নিয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে জুসন তাকে রিকশা থেকে নামিয়ে দেন। পরে বেশি ভাড়া দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আবারও জুসনকে সঙ্গে নেয় জুলহাস। পরবর্তীতে বার্থা এলাকায় নিয়ে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে জুসনকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহটি পাশের ঝোপে লুকিয়ে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারের পর জুলহাসকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে সে হত্যার পুরো ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে বলে জানানো হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, “জুসন হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন