ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: হরমুজ প্রণালিতে আবারও কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালি বন্ধ করে ওয়াশিংটনকে “ব্ল্যাকমেইল” করা যাবে না।
ইরানের সামরিক বাহিনী শনিবার জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আবারও তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে এবং কার্যত জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তেহরানের দাবি, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অবরোধই এ পদক্ষেপের কারণ, যা তারা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বার্তায় বলেন, দেশের নৌবাহিনী শত্রুদের বিরুদ্ধে ‘নতুন কঠোর আঘাত’ হানতে প্রস্তুত।সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনার পর ভারত সরকার নয়াদিল্লিতে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রণালির নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার জন্য জাহাজ চলাচলে খরচ আরোপসহ নতুন শর্ত বিবেচনা করছে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘খুব ভালো আলোচনা’ চলছে, তবে তেহরান আবারও প্রণালি বন্ধ করতে চাইছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরান এভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিতে পারবে না।’
যদিও শুক্রবার কিছু তেলবাহী জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল, তবে নতুন করে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণায় আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফা আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। আগে একটি সমঝোতার কাঠামোতে পৌঁছানো প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের এই সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়ে যায়।বর্তমানে শত শত জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি