নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুরে দুই শিশুসহ পরিবারের চার সদস্যকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। ডাকাতি নাকি জমি নিয়ে বিরোধ তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় জিজ্ঞেসাবাদের জন্য নিহত হাবিবুর রহমানের পিতা নুমির উদ্দীন, বড় বোন ডালিমা, মেঝ বোন শিরিনা ও ভাগনে সবুজকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১এপ্রিল) সকালে বাহাদুরপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আলাদা আলাদা শয়ন কক্ষে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তবে একই বাড়িতে আলাদা ঘরে অক্ষত অবস্থায় ছিলেন নিহত হাবিবুর রহমানের পিতা নুমির উদ্দীন। তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেন। তবে ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন।
বেশ কিছুদিন হলো তিনি একমাত্র ছেলে হাবিবুরকে দশ বিঘা জমি লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে মেয়ে ও নাতিদের সঙ্গে বিবাদ চলে আসছিল। তাছাড়া নিহত হাবিবুর দুই লক্ষ টাকায় গরু বিক্রি করেছিল। সেই টাকা ঘটনার দিন বাড়িতেই ছিল।
নিহত গৃহবধু পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন, তার মেয়ের ননদ শিরিনা ও তার ছেলে সবুজ রানা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর আগেও তারা তার মেয়ে ও জামাইকে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিবেশী সাহেব আলী বলেন, ঈদের আগে বোন শিরিনার ছেলে সবুজ নুডুলস এনে দিলে তা খেয়ে সকলেই অচেতন হয়ে পরে। পরে পাগল হয়ে যাওয়ার উপক্রম। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা৷ হচ্ছে ঘটনাটি ডাকাতি নয়। জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ নিয়ে হতে পারে। আমরা অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছি। জিজ্ঞেসাবাদের জন্য পরিবারের চার জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আশা করি অতিদ্রুত আমরা সত্য উদঘাটন করতে পারব।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু