স্টাফ রিপোর্টার: লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরানো হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া-এর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় বুধবার (২২ এপ্রিল) এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
প্রত্যাবাসিতরা ত্রিপোলি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপদগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থসহ মোট ২৭ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
তাদের বহনকারী লিবিয়ার বুরাক এয়ারের ইউজেড-২২২ ফ্লাইট বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রত্যাবাসনের আগে দূতাবাস প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ অভিবাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিদায় জানান। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান ও প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের উদ্দেশে প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিংয়ে বলেন, লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। তিনি বিপদগ্রস্ত ও পাচারের শিকার বাংলাদেশিদের ফেরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-এর অগ্রাধিকারমূলক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
এ ছাড়া বহির্গমন ভিসা (খুরুজ নিহায়ি) প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও প্রয়োজনীয় ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএম-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন ও পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিষয়ে অভিবাসীদের দিকনির্দেশনা দেন রাষ্ট্রদূত। নতুন উদ্যমে জীবন শুরু এবং অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারি-বেসরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণে উৎসাহিত করেন।
একই সঙ্গে দালালচক্রের প্রতারণার শিকারদের দেশে ফিরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা রোধ করা যায়। অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি ও ভোগান্তির অভিজ্ঞতা নিজ নিজ এলাকায় তুলে ধরে সচেতনতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।
চলতি ২০২৬ সালে আইওএম-এর সহায়তায় চারটি পৃথক ফ্লাইটে এখন পর্যন্ত মোট ৬৮৯ জন বাংলাদেশিকে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি