প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 23-04-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ আক্কেলপুরে মাদ্রাসাছাত্রকে নির্যাতন, শিক্ষক পলাতক
জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পড়া না পারায় নাহিদ হাসান (১০) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রকে বেদম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদরাসার প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) উপজেলার রামশালা দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদরাসায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আবু হুরাইরা। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে শিক্ষক আবু হুরাইরা শিশু নাহিদকে বেদম বেত্রাঘাত করেন। বিকেলে নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান মাদরাসায় গিয়ে ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু হুরাইরা কৌশলে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান।
এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক স্থানীয় রামশালা মোড়ে এলে উত্তেজিত জনতা তাকে অবরুদ্ধ করে। অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তাকে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীর বাবা মিজানুর বলেন, শিক্ষক হিসেবে তিনি ছেলেকে শাসন করতে পারেন। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যেভাবে মারা হয়েছে একজন চোরকেও কেউ এভাবে মারে না। সকালে মারধর করা হলেও সন্ধ্যায় তার শরীরে আঘাতের দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে আছে।
জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেই পালিয়ে গেছেন। তাকে পালাতে সহায়তা করার যে অভিযোগ উঠেছে তা ভিত্তিহীন। উত্তেজিত লোকজন মিথ্যা অভিযোগে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান বলেন, ছাত্রের শরীরে আঘাতের অবস্থা দেখে আমি নিজেও হতবাক হয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।