ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: পারস্য উপসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণ করতে অন্তত ছয় মাস সময় প্রয়োজন বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। সম্প্রতি হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির এক বিশেষ বৈঠকে এই তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই দীর্ঘ সময়সীমার কথা শুনে মার্কিন আইনপ্রণেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগনের এই ব্রিফিংয়ের পর আইনপ্রণেতাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয়, রণকৌশল এবং প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে পেন্টাগন কোনো স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেনি।
আরও বলা হয়, যুদ্ধের শুরুতে ইরানে একটি স্কুলে হামলার ঘটনায় ১৬৫ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই ছিল স্কুলছাত্রী। এই অকাল মৃত্যুর দায় এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনপ্রণেতারা এখনো অন্ধকারে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। এই যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জলমাইন পাতে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
তবে প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন পাতা হয়েছিল, তার রেকর্ড ঠিকমতো রাখেনি রেভল্যুনারি গার্ড কোর। ফলে ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে হরমুজ থেকে মাইন অপসারণ করা। কারণ, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। কারণ, ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় ২৫ ভাগ বা এক চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ এম এইচ