রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতি আগামী সাত দিনের মধ্যে সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় সাময়িক সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় তিনি বিদ্যুৎ সংকটে ভোগান্তির জন্য জনগণের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমদানিকৃত কিছু পাওয়ার প্লান্ট এবং একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে এসব কেন্দ্র দ্রুত পূর্ণ উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
তিনি জানান, দেশের কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। একইসঙ্গে শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রামীণ কৃষকরা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বুধবার দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াটের কিছু বেশি, ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, দৈনিক চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি থাকছে। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আশ্বাস দেন, সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনার আওতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত দৃশ্যমান হবে।
সবশেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান সমস্যাগুলো বর্তমান সরকারের একক নয়, বরং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতার ফল। তবে ধাপে ধাপে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানো হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম