স্পোর্টস ডেস্ক: আসন্ন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরে প্রশাসনিক অস্থিরতা ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে দলটির সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে।
আর্জেন্টাইন ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-এর সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া বর্তমানে একাধিক বিতর্কের কেন্দ্রে। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর যিনি সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রে ছিলেন, এখন তিনিই সমালোচনার মুখে। দর্শকদের দুয়োধ্বনি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন এবং দুর্নীতির অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, ঘরোয়া লিগে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন এবং দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত দলের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইন্দোনেশিয়া, পুয়ের্তো রিকো, অ্যাঙ্গোলা কিংবা মৌরিতানিয়ার মতো অপেক্ষাকৃত নিচের সারির দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সামনে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের মতো দলগুলোর বিপক্ষেও ম্যাচ রয়েছে, যারা বিশ্বকাপের মূল পর্বে নেই।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও চাপে রয়েছেন তাপিয়া। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই-এর সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। ক্লাবগুলো বেসরকারিকরণ ইস্যুতে দুপক্ষের অবস্থান বিপরীত হওয়ায় এই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে। এরই মধ্যে কর ফাঁকির অভিযোগে তাপিয়ার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, যা প্রমাণিত হলে তাকে কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে হতে পারে। যদিও এএফএ এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
মাঠের বাইরের এই টানাপোড়েনের মধ্যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করছেন। অধিনায়ক লিওনেল মেসি প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তার সঙ্গে তাপিয়ার দূরত্ব বেড়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আমরা ফুটবলার, আমাদের কাজ মাঠে খেলা। রাজনীতি নিয়ে ভাবি না।
এদিকে ঘরোয়া লিগ সংস্কার নিয়েও বিতর্ক থামছে না। তাপিয়ার সিদ্ধান্তে শীর্ষ লিগে দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ করা এবং অবনমন ব্যবস্থা স্থগিত করায় প্রতিযোগিতার মান কমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউরোপের লিগ কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করে অনেকেই এটিকে অযৌক্তিক বলছেন। এমনকি রিভার প্লেট ও এস্তুদিয়ানতেস-এর মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোও এর বিরোধিতা করে নির্বাহী কমিটি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই অস্থিরতা বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও কেউ কেউ ইতিহাস টেনে বলছেন, সংকটের মধ্যেও সাফল্য সম্ভব যেমন ইতালির ১৯৮২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপ জয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার জন্য চ্যালেঞ্জ যে সহজ নয়, তা স্পষ্ট।
সবমিলিয়ে, শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামার আগে প্রশাসনিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না—এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবল দুনিয়ায়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম