প্রকৌশলী আদিল সাদ:
বর্তমান চলমান রাজনীতি এমন হয়েছে—কোন শিক্ষা-কেন্দ্রিক গবেষণা নেই, সন্ত্রাসী কার্যক্রমেই সবাই আগ্রহী। চলমান সংকট থেকে মুক্তি নেই; সবাই কিন্তু জুলাইতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রদল যদি জুলাইতে হাল না ধরত, মাঠে না নামত, সবাই শহীদ হয়ে ছবি হয়ে যেত। শুধু ছাত্রদল নয়, ছাত্রশিবির—তাদের সাথে ইসলামী দলগুলোর ছাত্র আন্দোলনের শক্তিগুলো নিয়ে মাঠে ছিল। একই ছাতার নিচে রাজনীতি করেছে। কোন ভেদাভেদ ছিল না। তখন আমরা শুনিনি কে গুপ্ত আর সুপ্ত। আজকে কয়েকদিনে যে আয়োজন দেখলাম, তাতে আপনাদের ঐক্য ভেঙে যাচ্ছে। দেশে আবার রাজনীতিতে সংকট তৈরি হচ্ছে। ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় আমরা এতোটাই ক্লান্ত—সবাই অল্পতে অর্ধবৃত্ত নিয়ে নিজের সম্পদ গুছাতেই সফল। মানুষের বিবেক পরিবর্তন হয়েছে; দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মাঠে নেমে আপনারা আগের মতো ১৭ বছরের রাজনীতিতে ফিরে গেলে, নিয়মিত ছাত্ররা আবার আপনাদের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। আপনাদের কাজ কি ছিল? গণঅভ্যুত্থানকে কিভাবে আপনারা ধারণ করবেন? কই, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দেখলাম ১৭ বছরে তাদের গুম-সংক্রান্ত কোন ডকুমেন্টারি? দেখলাম না কোন পঙ্গু হওয়া ছেলেদের পাশে গিয়ে তাদের পরিবার নিয়ে কোন আয়োজন। গাড়ির পিছনে দৌড়ানোর রাজনীতি থেকে বের হয়ে এসে আলাদা কোন কিছুর মৌলিকতা? আপনাদের গ্রন্থাগার নিয়ে কোন গবেষণা ও জার্নাল? সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা কোন উদ্যোগ—দেখলাম না কোন উপজেলা ও জেলা শহরে মেধাবী অন্বেষণ প্রতিযোগিতা। এভাবে একটি রাজনৈতিক দলের প্রাণের সংগঠন কি টিকে থাকবে? আপনারা পরিবর্তন না চাইলে এদেশে পরিবর্তন কেমন করে আসবে?
আর ইসলামী ছাত্রশিবির—আপনারা অল্পতেই দেখি সামাজিক মাধ্যমে গালাগালি শুরু করে দেন। আলাদা আইডি খুলে এআই দিয়ে বিকৃতি করে অন্যকে দুর্বল করার চিন্তা রাজনৈতিক কোন অস্ত্র হতে পারে না। আপনারা নীরবে, গোপনে রাজনীতি করেন। এটা দোষের কিছু না। এটা একটি রাজনৈতিক কৌশল আপনাদের—এটা মেনে নিয়ে রাজনীতি করতে শিখুন। কেউ আক্রমণ করলে সংস্কৃতি-সভ্যতা দিয়ে আঘাত করুন। উভয় দলের পরিবর্তন আমরা আশা করব। আপনারা ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করুন।
জুলাইতে যে সকল ছাত্ররা শহীদ হলো, তারা কোন দলের ছিল? না, তাদের গায়ে লেখা ছিল ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বাম। সবাই দেশের হয়ে নেমেছিল। কেউ ছাত্ররাজনীতির পরিচয়ে মাঠে নামেনি। আমাদের ঐক্য ও ভ্রাতৃপ্রেমে আমরা একে অপরের ভাই হতে না পারলে, এ সমাজ ও রাষ্ট্র-পরিচয়ে আমরা জেগে উঠতে পারব না।
যেখানে পৃথিবী পারমাণবিক বোমা নিয়ে গবেষণা করছে, নতুন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে সামনে আসছে, আমরা সেদিকে না তাকিয়ে দেখি—সবার হাতে দেশীয় অস্ত্র ও গালাগালির মিছিলের রাজনীতি।
একটা জাতির পরিবর্তন শুরু হয় তাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের হাতে। আমরা তো সেদিকে লক্ষ্য করছি না; আমরা তাকিয়ে আছি দুর্নীতি, চাটুকারিতার দিকে। এভাবে দেশে হাজার হাজার গণঅভ্যুত্থান আসলেও সফল হবে না। প্রতিটা ছাত্রসমাজের পরিবর্তন আসতে হবে।
চীফ লীড স্পেশালিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার, উজবেকিস্তান