ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি যুক্তরাজ্যের,এ কথা আবারও স্পষ্ট করেছে ব্রিটিশ সরকার। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলে যুক্তরাষ্ট্রের ফকল্যান্ড নিয়ে অবস্থান পুনর্বিবেচনার কথা ওঠার পর ব্রিটেনের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ওই ইমেইলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন না দেওয়া ন্যাটো মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে ফকল্যান্ড প্রশ্নে কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্যের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার, এটি দীর্ঘদিনের এবং অপরিবর্তিত। সার্বভৌমত্ব যুক্তরাজ্যের এবং দ্বীপবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক প্রশাসনগুলোর কাছেও লন্ডন একই অবস্থান “স্পষ্ট ও ধারাবাহিকভাবে” তুলে ধরেছে।
এদিকে আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কুইর্নো এই ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি ফকল্যান্ডকে (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) ঔপনিবেশিক পরিস্থিতি” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ইতিহাস, অধিকার ও বিশ্বাস সব দিক থেকেই মালভিনাস আর্জেন্টিনার।
উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা-র মধ্যে স্বল্পকালীন যুদ্ধ সংঘটিত হয়। আর্জেন্টিনার বাহিনী দ্বীপ দখলের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। ওই যুদ্ধে প্রায় ৬৫০ আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করলে দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাজ্যের কাছেই থাকে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের ওপর যুক্তরাষ্ট্র চাপ সৃষ্টি করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তার মুখপাত্র বলেন, “এ ধরনের চাপ তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে না। তিনি সবসময় জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেন এবং ভবিষ্যতেও তা-ই করবেন।”
রিপোর্টার্স২৪/এসসি