রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দেয়াল লিখন ও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতের জেরে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাজধানীর শাহবাগে বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং ডাকসুর দুই নেতাকে মারধরের ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ, উত্তেজনা ও মুখোমুখি অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলো বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া নজরদারি ও সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সহিংসতা, উসকানিমূলক দেয়াল লিখন ও সংঘাত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে ছাত্রদল ও শিবিরের সংঘর্ষের সময় ডাকসুর দুই নেতা মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। পরবর্তীতে শাহবাগ থানার ভেতরেই আশ্রয় নেন কয়েকজন ছাত্র প্রতিনিধি।
ঘটনার পরই ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জগন্নাথসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভে নামে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন জেলায়ও।
চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দেয়ালে ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে সেখানে ‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা পরে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই একাধিক স্থানে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ও কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটেও একই দিনে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।
ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দেয়াল লিখন, উসকানি ও সংঘাত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে বলে জানানো হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও সর্বদলীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শাহবাগের ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার না করলেও দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
অন্যদিকে শিবিরের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচির সময় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ছাত্রদলের কর্মীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে সাংবাদিকসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, ক্যাম্পাস ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সিসিটিভি মনিটরিং ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকরা বলছেন, ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উভয় পক্ষকে সংযম দেখাতে হবে। না হলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হতে পারে।
সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো বিরাজ করছে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা। সংঘর্ষের রেশ কাটেনি, বরং নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম