রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চট্টগ্রামের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিকেল ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে কুস্তির রিংয়ে শুরু হবে দেশের খ্যাতিমান ১০৮ জন বলীর শক্তি, কৌশল ও সাহসের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের লড়াই। পুরো এলাকা জুড়ে ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশের বিভিন্ন জেলা কুমিল্লা, কক্সবাজার, সীতাকুণ্ড, রাঙামাটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনীসহ উত্তরবঙ্গের নানা প্রান্ত থেকে আগেই চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছেন বলীরা। এবার লালদীঘির ঐতিহাসিক ময়দানে নামছেন মোট ১০৮ জন প্রতিযোগী, যাদের মধ্য থেকে একজনই অর্জন করবেন শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।
এদিকে ১১৭তম আসরকে কেন্দ্র করে লালদীঘি ও আশপাশ এলাকায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ মেলায় মানুষের ঢল নেমেছে। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, লালদীঘি ময়দান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলীখেলার জন্য। ২০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থের মূল মঞ্চ ইতোমধ্যে সাজানো হয়েছে। সকাল থেকেই মঞ্চের চারপাশে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। একই সঙ্গে মেলায় বেচাকেনা ও ব্যস্ততাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ কুস্তিগীর। তিনি ফাইনালে রাশেদ বলিকে পরাজিত করে টানা দুইবার শিরোপা জয় করেন। এবারের আসরেও শরীফ ও রাশেদ উভয়েই অংশ নিচ্ছেন, যা দর্শকদের আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, এবারও এই দুই বলীর মধ্যেই হতে পারে জমজমাট ফাইনাল লড়াই।
মেলা ও বলীখেলার আয়োজক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শক্তিশালী বলীরা ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছেন। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এমনকি উত্তরবঙ্গ থেকেও দক্ষ কুস্তিগীররা অংশ নিচ্ছেন।
তারা আরও জানান, প্রতিযোগিতায় প্রাথমিকভাবে সেরা ৮ জন বলী নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল পর্বের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন।
এদিকে অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। লালদীঘি ময়দান ও আশপাশ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন বলেন, বলীখেলা ও বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।
এবারের বলীখেলার উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
পুরো চট্টগ্রামজুড়ে এখন একটাই অপেক্ষা লালদীঘির ময়দানে শুরু হতে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী বলীখেলার চূড়ান্ত লড়াই।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম