রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পাটপণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমেই দেশের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফিনিশড ও বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন বাড়াতে পারলে রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের জিয়া হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত “বহুমুখী পাটপণ্য মেলা–২০২৬” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার পাটখাতকে আধুনিক ও লাভজনক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোতে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে পলিথিনের ব্যবহার কমানো যায়।
তিনি আরও বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে পাটপণ্য তৈরি করে রপ্তানি করলে বেশি মূল্য সংযোজন হয় এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। যদিও এতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে।
পণ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্পনির্ভর এলাকা, যেখানে হাজার হাজার গার্মেন্টসসহ প্রায় তিন হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে। সাম্প্রতিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বাস্তবে এর প্রভাব খুবই সীমিত।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একটি ট্রাক ২০০ কিলোমিটার পথ চলতে প্রায় ৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে, এতে অতিরিক্ত ব্যয় হয় প্রায় ৪৫০ টাকা। ফলে প্রতি কেজি পণ্যে ব্যয় বাড়ে মাত্র ৪৫ পয়সা, যা পণ্যমূল্য বৃদ্ধির বড় কারণ হতে পারে না। অনেক সময় গুজব ও অযৌক্তিক ধারণাই বাজারে দাম বৃদ্ধির ধারণা তৈরি করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রপ্তানি খাতে মন্দাভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে সরকার জ্বালানিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে এলএনজি আমদানি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নুরুল বাসির এবং জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম