রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাসভাড়া বাড়লেও নগরবাসীর ভোগান্তি কমছে না বরং প্রতিদিনের যাত্রায় একই ধরনের অস্বস্তি, অব্যবস্থাপনা ও সেবাহীনতার চিত্রই ফুটে উঠছে রাজধানীর গণপরিবহনে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার থেকে বাড্ডা লিংক রোড পর্যন্ত ‘ভিক্টর ক্লাসিক’ বাসে এক যাত্রার চিত্রে দেখা যায়, ভাড়া সমন্বয়ের ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে যাত্রীসেবার কোনো উন্নতি হয়নি।
সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে বাসে ওঠেন অফিসগামী যাত্রী সাইফুল ইসলাম। শুরুতে স্বাভাবিক যাত্রার প্রত্যাশা থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সিদ্দিক বাজার, ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্তান পার হতে না হতেই বাসের গতি ও যাত্রী ওঠানামায় ভোগান্তি শুরু হয়।
মগবাজার উড়ালসড়ক পেরিয়ে ১০টা ২২ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছাতে মোট সময় লাগে ৪১ মিনিট যেখানে যাত্রাপথে উঠে আসে নগর পরিবহনের বাস্তব চিত্র। বাসের ভেতরে দেখা যায় অচল ফ্যান, নোংরা সিট, ধুলোময় পরিবেশ এবং জানালায় পর্দার অভাব। রোদের তাপে অনেক আসন খালি থাকলেও বসা সম্ভব হয় না যাত্রীদের জন্য।
এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রী তোলা যেন নিয়মিত চিত্র। ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী নেওয়ায় অনেককে দাঁড়িয়ে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয়। নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকারিতা নেই বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
নিত্যযাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই দেখি ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা আসে, কিন্তু বাসের ভেতরের অবস্থা আগের মতোই থাকে। ফ্যান চলে না, সিট নোংরা—এই অবস্থায় বাড়তি ভাড়া অন্যায় মনে হয়।
শারমিন আক্তার বলেন, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন থাকলেও তা মানা হয় না। অনেক সময় দাঁড়িয়ে যেতে হয় পুরো পথ।
প্রবীণ যাত্রী আব্দুল করিম বলেন, বয়স্কদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা নেই। ওঠানামাও কষ্টকর, অথচ কেউ দায়িত্ব নেয় না।
নতুন ভাড়া কার্যকর হলেও বাসে কোথাও কোনো ভাড়ার তালিকা নেই। ফলে যাত্রী ও পরিবহন কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। কোথাও আগের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার নতুন ভাড়া আদায়ের চেষ্টা চলছে।
বাস সহকারী রাজু জানান, অনেক যাত্রী নতুন ভাড়া দিতে চান না। আবার আমাদেরও পরিষ্কার নির্দেশনা নেই।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, যাত্রীদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর প্রতিনিধিত্ব না থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। মালিকদের প্রভাব বেশি থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আইনগত সংস্কার ছাড়া এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর সরকার বাসভাড়া সমন্বয় করে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া সামান্য বৃদ্ধি পেলেও সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ ও ১০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
সরকার বলছে, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করেই ভবিষ্যতে ভাড়া নির্ধারণ করা হবে।
বাসভাড়া বাড়লেও নগরবাসীর দৈনন্দিন যাত্রায় স্বস্তি ফেরেনি। বরং অব্যবস্থাপনা, নজরদারির অভাব এবং সেবার ঘাটতি মিলিয়ে গণপরিবহন ব্যবস্থা এখনো যাত্রী ভোগান্তির বড় উৎস হয়ে আছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম