রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কল আসার সময় অপরিচিত নম্বর শনাক্ত করার জনপ্রিয় অ্যাপ ট্রুকলার এখন বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। স্প্যাম ও অচেনা কল ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে বহু ব্যবহারকারী দীর্ঘদিন ধরে এই অ্যাপের ওপর নির্ভর করলেও নতুন প্রযুক্তি ও টেলিকম সেবার কারণে এর বাজারে চাপ বাড়ছে।
বিশ্বজুড়ে ৫০ কোটির বেশি ব্যবহারকারী থাকা এই অ্যাপের সবচেয়ে বড় বাজার ভারত, যেখানে প্রায় ৩৫ কোটির বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। স্প্যাম কলের সমস্যা বেশি হওয়ায় সেখানে ট্রুকলারের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং এটি দৈনন্দিন যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়।
তবে এখন সেই অবস্থান চ্যালেঞ্জের মুখে। ভারতে টেলিকম অপারেটররা নতুন সেবা চালু করছে, যেখানে নেটওয়ার্ক থেকেই কলারের নাম দেখা যাবে। আলাদা কোনো অ্যাপ ছাড়াই এই সুবিধা পাওয়া যাবে, ফলে ট্রুকলারের প্রয়োজনীয়তা কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে স্মার্টফোন নির্মাতারাও নিজেদের সিস্টেমে কল শনাক্তকরণ ও স্প্যাম ব্লকিং সুবিধা যুক্ত করছে। ফলে ব্যবহারকারীরা ফোনের ভেতরেই এই সেবা পাচ্ছেন, আলাদা অ্যাপ ব্যবহারের প্রয়োজন কমছে।
এই প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়েছে ট্রুকলারের প্রবৃদ্ধিতে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ভারতে অ্যাপটির ডাউনলোড আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে। বিশ্বব্যাপী ডাউনলোডও প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
কয়েক বছর আগে, ২০২১ সালে ডাউনলোড ছিল সর্বোচ্চ, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ। এরপর থেকে তা ধীরে ধীরে কমে বর্তমানে বছরে প্রায় ১২ কোটির আশপাশে স্থিতিশীল রয়েছে।
শেয়ারবাজারেও কোম্পানিটি চাপের মধ্যে রয়েছে। তালিকাভুক্তির পর থেকে শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারা শুধু কলার আইডি নয়, বরং স্প্যাম শনাক্তকরণ, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং ব্যবসায়িক পরিচয় যাচাইয়ের মতো সেবাও দিচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নতুন ফিচারও যুক্ত করা হচ্ছে।
আয়ের বড় অংশ আসে বিজ্ঞাপন থেকে। তবে বিজ্ঞাপন বাজারেও পরিবর্তনের কারণে চাপ তৈরি হয়েছে। এজন্য কোম্পানিটি নতুন অংশীদার যুক্ত করা এবং নিজস্ব বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
এছাড়া সাবস্ক্রিপশন ও প্রিমিয়াম সেবা থেকেও আয় বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৪০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী অর্থপ্রদায়ী সেবা নিচ্ছেন।
ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও আগে থেকেই সমালোচনা রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা সব কার্যক্রমই আইন মেনে পরিচালনা করছে।
সব মিলিয়ে নতুন প্রযুক্তি ও প্রতিযোগিতার যুগে ট্রুকলার এখন নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম