রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, এবারের নির্বাচনে তার দল ২২৬টির বেশি আসন পাবে এবং প্রয়োজন হলে ২৩০ আসন পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, যা টিভিতে দেখানো হচ্ছে, তা পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা। বিজেপি টাকা দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করেছে।
বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। অধিকাংশ সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে রয়েছে বিজেপি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮ আসন।
তবে এসব ফলাফলকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জনগণ যেভাবে ভোট দিয়েছে, তাতে তৃণমূল নিশ্চিতভাবে এগিয়ে আছে। তিনি অভিযোগ করেন, ফলাফলকে প্রভাবিত করতে একটি “সার্কুলার” জারি করে মিডিয়াকে নির্দিষ্ট ফল দেখাতে বাধ্য করা হয়েছে।
ভিডিওবার্তায় তিনি ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ তোলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এনে বলেন, আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, নারী ও শিশুদের ওপরও অত্যাচার হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের ভোটের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশেষ করে ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল ও ভবানীপুর এলাকায় রাতে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।
বুথফেরত সমীক্ষাকে তিনি “রাজনৈতিক চক্রান্ত” আখ্যা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে তৃণমূলের মনোবল ভাঙার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রকৃত ফল প্রকাশ পেলে শেয়ার বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে এই আশঙ্কা থেকেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
নির্বাচন গণনা ঘিরেও সতর্ক অবস্থানের নির্দেশ দেন তিনি। দলের প্রার্থীদের গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে সার্বক্ষণিক নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কাউকে এক মুহূর্তের জন্যও টেবিল ছাড়তে দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইভিএম পরিবর্তনের মাধ্যমে ফল বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাই সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন দলীয় কর্মীদের।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি নিজেও গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন এবং জয় নিয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।
সবশেষে তিনি দলীয় কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না।
সূত্র : আনন্দবাজার
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম