বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরে হৃদরোগের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে “যশোর হার্ট ফাউন্ডেশন”এর জন্য সরকার জমি বরাদ্দ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের নামে জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান সরকারের পক্ষে এই জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এ সময় ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের হাতে জমির দলিল ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র তুলে দেওয়া হয়।
মাত্র এক বছর বয়সী এই প্রতিষ্ঠানটির জন্য জমি বরাদ্দকে যশোরবাসীর জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এমএম রশিদ বলেন, “যশোরে এখনো মানসম্পন্ন ও পূর্ণাঙ্গ হৃদরোগ চিকিৎসার স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। ফলে জটিল রোগীদের ঢাকাসহ বড় শহরে যেতে হয়। এই বাস্তবতায় একটি পূর্ণাঙ্গ কার্ডিয়াক সেন্টার সময়ের দাবি ছিল।”
তিনি জানান, গত বছরের এপ্রিল মাসে খাস জমি বরাদ্দের আবেদন করা হয়। পরে জনগুরুত্ব বিবেচনায় বেনাপোল–যশোর–কলকাতা রোড সংলগ্ন মালঞ্চী এলাকায় এক একর পাঁচ শতক জমি ফাউন্ডেশনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা জানান, ২০২৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শহরের এমকে রোডে অস্থায়ী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধন, গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অনুমোদন নেওয়া হয়। জমি বরাদ্দ পাওয়াকে তিনি সংগঠনের জন্য “বড় মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করেন।
জমি হস্তান্তর উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মিষ্টিমুখের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার, ডেপুটি কালেক্টর (রেভিনিউ) বাসুদেব কুমার মালোসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সাবেক অতিরিক্ত সচিব শফিউল হক, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, সভাপতি চিন্ময় সাহা, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা, সদস্য রফিকুল ইসলাম আরজু, তবিবর রহমান, আতিয়ার রহমান, খান তাজ উদ্দিনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যশোর ও আশপাশের জেলাগুলোতে হৃদরোগ চিকিৎসায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম