সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) টিএমএসএসের দায়ের করা মামলায় দেড় বছরের শিশু সন্তানসহ মোছা. জান্নাতি খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
শুক্রবার (১ মে) সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতের বিচারক ওবায়দুল হক রুমি তার জামিন মঞ্জুর করেন। জান্নাতি খাতুন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর গ্রামের পাটগাড়ী পাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী।
সিরাজগঞ্জ সদর কোর্ট পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানি জানান, এনআই অ্যাক্টের মামলায় তাড়াশ থানা পুলিশ জান্নাতিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। আদালতে হাজির করার পর বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে জান্নাতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার দেড় বছরের শিশু সন্তান আব্দুর রহিমকেও সঙ্গে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামে একটি বেসরকারি সংস্থার ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পে মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন জান্নাতির স্বামী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার কাছিকাটা শাখায় কর্মরত ছিলেন। চাকরির শর্ত অনুযায়ী তিনি ২৪ হাজার ৮০০ টাকা জামানত জমা রাখেন। একই সঙ্গে তার স্ত্রী জান্নাতি খাতুনের নামে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন আব্দুর রাজ্জাক।
পরবর্তীতে ঋণের বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় টিএমএসএস আদালতে মামলা করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাড়াশ থানা পুলিশ জান্নাতিকে গ্রেপ্তার করে।
আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, ৫০ হাজার টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে। চাকরির জামানত হিসেবে জমা রাখা ২৪ হাজার ৮০০ টাকা ঋণের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছিলেন। তবে সেটি সমন্বয় না করে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, নাটোর আদালতে দায়ের করা মামলায় জান্নাতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় দুই বছর আগের একটি আলোচিত ঘটনার স্মৃতি ফিরে এসেছে। ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১৩ হাজার টাকার ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় খালেদা পারভীন নামে এক গৃহবধূকে তিন বছরের শিশু সন্তান রেখে কারাগারে যেতে হয়েছিল। ওই ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় ঋণের টাকা পরিশোধ করা হলে ঈদের ছুটি শেষে আদালত খুললে মুক্তি পান তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি