আলমগীর পাঠান বেলাবো (নরসিংদী): নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার বাজনাবো ইউনিয়নের হাড়িসাংগা এলাকায় চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ২০টি পরিবারের অন্তত ১৫০ মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কয়েকদিন ধরে তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, যা স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী একটি নির্দিষ্ট পথ ব্যবহার করে যাতায়াত করে আসছিলেন, যা তাদের একমাত্র চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি একই এলাকার বাসিন্দা মো. ফজলুল হক ওই পথটি তার ব্যক্তিগত জমি দাবি করে হঠাৎ বন্ধ করে দেন।
এদিকে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর থেকে রাস্তাটিতে ইটের সলিং করার উদ্যোগ নেওয়া হলে এবং ইট এনে রাখা হলে, সেই সময়ই রাস্তার ওপর বাউন্ডারি দিয়ে পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
এ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এলাকার খেটে খাওয়া মানুষ। কয়েকটি পোল্ট্রি খামারের মালিকরা তাদের উৎপাদিত ডিম বাজারজাত করতে পারছেন না। একই সঙ্গে মুরগির খাদ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় খামারগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এক খামারী বলেন, মুরগীর খাদ্য আনতে পারছি না। খামারের ডিমগুলো মনে হয় এখানেই নষ্ট হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, এলাকায় বসবাসকারী বেশ কয়েকটি পরিবার রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু গত পাঁচ দিন ধরে তারা রিকশা নিয়ে বের হতে না পারায় তাদের আয়-রোজগার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
একজন রিকশাচালক বলেন, পাঁচ দিন ধরে গাড়ি বের করতে পারছি না। ঘরে জমানো টাকা শেষ। দ্রুত সমাধান না হলে না খেয়ে থাকতে হবে।
এলাকার শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন বিপাকে। এক কলেজ ছাত্রী জানায়, এই রাস্তা বন্ধ থাকায় চলাফেরা করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ঠিকমতো কলেজে যেতেও পারছি না।বৃষ্টির দিন ছাতা খুলে যাওয়া যাচ্ছে না এই রাস্তা দিয়ে।
এলাকাবাসী আরও জানান, জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ, শিশুদের স্কুলে যাওয়া কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করা সবকিছুই এখন চরম কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষদের জন্য পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা অথবা পূর্বের রাস্তা পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে মো. ফজলুল হকের বাড়িতে পরপর দুই দিন গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
বেলাবো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু