ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক চারটি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল ১১টার মধ্যে জেলার সদর, বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল ও ভূল্লী থানা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহ, বিয়ের যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল না পাওয়া এবং দীর্ঘদিনের অসুস্থতা সইতে না পেরে এই চারজন আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সদর থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বঠিনা গ্রামে বিয়ের মাত্র একদিন আগে সৌরভ (২২) নামে এক ছাত্র বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। আজ রোববার সকালে সৌরভের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দাবি করেছিলেন সৌরভ। এ নিয়ে বাবার সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় গতকাল শনিবার রাতে তিনি ঘরে রাখা গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দিনাজপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হলে আজ সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, সদরের ভূল্লী থানাধীন কিসামত শুখানপুকুরী গ্রামে তানজিন আক্তার ওরফে লিপি (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত ২৭ এপ্রিল তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নিজ ঘরের তীরের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। তবে আত্মহত্যার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উত্তর পাড়িয়া গ্রামে মৃগী রোগে আক্রান্ত তাহের (৪০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। স্বজনদের ধারণা, ঘাস কাটার সময় হঠাৎ মৃগী রোগের কারণে তিনি পুকুরে পড়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন।
এছাড়া রাণীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নে মালতি বালা (৫৮) নামে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, মৃত মালতি দীর্ঘদিনের পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। গতকাল শনিবার বিকেলে পারিবারিক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্বামীর সাথে ঝগড়া করে অভিমানে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে সেতাবগঞ্জ এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
সংশ্লিষ্ট থানাগুলোর অফিসার ইনচার্জগণ (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো সৎকার ও কবরস্থ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জিআরও ফরিদুজ্জামান বলেন, জেলায় পৃথক পৃথক স্থানে চারটি মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহগুলো দাফন ও সৎকারের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু