রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান। এর আগে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে কীভাবে বাজার ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়েও অধিবেশনে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদক পর্যায়ের মূল্য ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান, বিশেষ করে কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে, বাজার অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি গত পাঁচ দশকে সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠাও একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি জানান, আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি আধুনিক এআই-নির্ভর মডেলের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বাজার পর্যবেক্ষণ সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া আমদানিনির্ভর পণ্যের জন্য কৌশলগত মজুত (স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ) গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়। ভবিষ্যতে তেল, চিনি মতো পণ্যের এক থেকে দুই মাসের মজুত নিশ্চিত করা গেলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা কঠিন হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাজারের সব অস্থিরতার জন্য শুধু সিন্ডিকেট দায়ী নয়; অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাও দায়ী। এসব সমস্যা সমাধানে সংরক্ষণাগার নির্মাণ, কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা এবং সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ সময় তিনি জানান, সরকার ধাপে ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্র ও পাটকলগুলো বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে ২৫টি বস্ত্রকল ও ২৫টি পাটকল রয়েছে, যার মধ্যে কিছু ইতোমধ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি মিলগুলো দ্রুতই হস্তান্তর করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম