রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী নাসির উদ্দিন হত্যার জের ধরে মোহাম্মদ হাসান ওরফে রাজুকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই পুরো হত্যাকাণ্ডের ‘মিশন’ শেষ হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র ও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১০টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদের শহীদ মিনার কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই রাজু নিহত হন। এ সময় রেশমি আক্তার নামে ১১ বছর বয়সী এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মুখোশ পরা ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত খুব কাছ থেকে রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয় এবং পুরো ঘটনা এক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
স্থানীয় একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে কয়েকজন দুর্বৃত্ত দ্রুত দৌড়ে এসে গুলি চালায়। ফুটেজে ৬ সেকেন্ডে অন্তত ৪ রাউন্ড গুলির শব্দ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
গুলিবর্ষণের পর রাজু ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়। গুরুতর আহত শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহত রাজু রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং আলোচিত যুবদলকর্মী নাসির উদ্দিন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন।
গত ২৬ এপ্রিল রাউজানে নাসির উদ্দিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় রাজুর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ধারণা, সেই হত্যার প্রতিশোধ নিতেই রাজুকে টার্গেট করা হতে পারে।
তবে পরিবারের দাবি, রাজু কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং তার কোনো শত্রুতাও ছিল না। তার যমজ ভাই মোহাম্মদ হোসেন সাজু দাবি করেন, রাজু একজন দিনমজুর ছিলেন এবং তাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ, ডিবি ও র্যাব তদন্তে নামে। একাধিক সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শুক্রবার (৯ মে) বিকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (উত্তর) উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক টিম কাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, গুলির শব্দ প্রথমে তারা আতশবাজি বা শর্টসার্কিট ভেবেছিলেন। পরে বাইরে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রাউজানে সহিংসতা বেড়েছে। গত প্রায় ২২ মাসে অন্তত ২৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১৬টি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজু হত্যাকাণ্ডও সেই ধারাবাহিকতার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম