প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 11-05-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ পাকুন্দিয়ায় কালভার্ট দখল করে বিএনপি নেতার বাড়ি নির্মাণ, পানির নিচে ৫০০ বিঘা ফসল
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সরকারি কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ বিঘা কৃষিজমির ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কয়েকশ কৃষক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের মধ্য কাগারচর বালুয়াকান্দা এলাকার মাঠের পর মাঠ সোনালী ধান এখন কোমরসমান পানির নিচে। হাড়ভাঙা পরিশ্রমে ফলানো ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন কৃষকরা। কেউ কেউ পানির নিচ থেকেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন। তবে অধিকাংশ কৃষকেরই শ্রম ও বিনিয়োগ এখন ধ্বংসের মুখে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বুরুদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক ওরফে আলতু মিয়া সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শুধু ধান নয়, রবি শস্যসহ পুকুরের লাখ লাখ টাকার মাছও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টির পানি জমে পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে আরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল খালেক ওরফে আলতু মিয়া বলেন, তিনি তার নিজস্ব জায়গায় ঘর নির্মাণ করেছেন। একইভাবে আরও অনেকে সড়ক ও কালভার্টের পাশে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান বলেন, গত দুই বছর ধরে এ সমস্যা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধু আশ্বাস দিয়েই সময় পার করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে চূড়ান্তভাবে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি কালভার্ট সচল করা হোক। অন্যথায় বিস্তীর্ণ এই কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।