রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় বা নিয়মিত ময়লা অপসারণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (পিসিএসপি)-এর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সোমবার (১১ মে) রাজধানীর নগর ভবন অডিটরিয়ামে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নগরীর নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে কিছু প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করছে এবং নিয়মিতভাবে প্রতিদিনের ময়লা সংগ্রহ করছে না। তিনি এ ধরনের অনিয়মকে “কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না” বলে সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা বর্জ্য বিল নেওয়া যাবে এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
সভায় “দিনের বর্জ্য দিনেই অপসারণ” নীতিকে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কোনো এলাকায় ময়লা জমে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও নির্দেশনা দেন তিনি।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রশাসক জানান, কোরবানির ঈদের তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড সম্পূর্ণভাবে বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থেকে কাজ করতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম তদারকি করতে হবে এবং পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দ্রুত সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা যায়।
এছাড়া নাগরিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নির্ধারিত পোশাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থানের বাইরে বর্জ্য ফেললে সংশ্লিষ্ট বাসার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু সেবা নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম