রিপোর্টার্স ডেস্ক: গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ভিক্ষুকের মৃত্যুর পর তাঁর পাঞ্জাবির পকেটে মিলেছে ৭০ হাজার ৮৬০ টাকা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়েছে। মৃত ভিক্ষুকের নাম আবুল হোসেন (৬৫)।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
ভিক্ষুক আবুল হোসেন খুলনার বাটিয়াঘাটা উপজেলার উত্তর হরিণটানা (জলমা) গ্রামের আবু তালেবের ছেলে। অল্প কয়েক দিন ধরে তিনি নগর হাওলা এলাকায় ভিক্ষা করছেন বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। তবে কার বাড়িতে বা কোথায় বসবাস করতেন, তা কেউ বলতে পারেননি।
গাজীপুর ইউনিয়নের নগর হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী আরিফ হোসেন বলেন, সোমবার রাত ৯টার দিকে ভিক্ষুক স্কুলে বারান্দায় এসে বিশ্রাম নেন। একপর্যায়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয় খুলতে গেলে তাঁকে বারান্দায় ঘুমানো অবস্থায় দেখতে পাই। পরে ডাক দিলে ঘুম থেকে না ওঠায় গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দিলে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজুল ইসলাম বলেন, নগর হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় অজ্ঞাত এক ভিক্ষুকের মৃত্যুর খবর দেন স্থানীয়রা। পরে ওই বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে ভিক্ষুকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহালে ভিক্ষুকের শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বার্ধক্যজনিত কারণে ভিক্ষুক আবুল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভিক্ষুক আবুল হোসেনের সঙ্গে থাকা প্লাস্টিকের বস্তায় এক জোড়া প্লাস্টিকের কালো রঙের স্যান্ডেল, একটি লুঙ্গি, একটি পাঞ্জাবি এবং চারটি পানির বোতল পাওয়া যায়। তাঁর গায়ে থাকা পাঞ্জাবির পকেট থেকে কয়েকটি পলিথিনে মোড়ানো টাকা পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পলিথিন খুলে টাকা গোনা হলে ৭০ হাজার ৮৬০ টাকা পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, আবুল হোসেন দীর্ঘদিন ভিক্ষা করে টাকাগুলো জমিয়েছিলেন।'
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ বলেন,ভিক্ষুকের সঙ্গে তাঁর জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) পাওয়া গেছে। ওই এনআইডি থেকে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হতে পেরেছি। আমরা খুলনার বাটিয়াঘাটা থানা পুলিশের মাধ্যমে ভিক্ষুকের বাড়িতে খবর পাঠিয়েছি। তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের কাছে ভিক্ষুকের জমানো টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে উদ্ধার হওয়া টাকাগুলো পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু