বাউফল প্রতিনিধি: বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়নের চাবুয়া গ্রামে নদীতীর কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, রাতের আঁধারে নদীসংলগ্ন জমি ও কবরস্থানের পাশ থেকে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। এতে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং পূর্বপুরুষদের কবরও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর পাড় ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পাশের দুটি ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে এসব মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নদীতীরের বড় বড় গাছও কেটে ফেলা হয়েছে, যা ভাঙনকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাচ্চু নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল লোক রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর ও শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এসব মাটি পার্শ্ববর্তী ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি হিসেবেও গাছ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “নদীর পাড়ের গাছ কেটে ফেলায় মাটি ধরে রাখার শক্তি কমে গেছে। এখন জোয়ারের সময় প্রচণ্ড স্রোতে পাড় ভেঙে যাচ্ছে। আমরা আতঙ্কে আছি যেকোনো সময় পুরো গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, “আমাদের পূর্বপুরুষদের কবরও রক্ষা পেল না। ইতোমধ্যে কয়েকটি কবর নদীগর্ভে চলে গেছে। আমরা এখন কোথায় থাকব, কীভাবে বাঁচব সেই চিন্তায় দিন কাটছে।”
সরেজমিনে গিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে সংশ্লিষ্টরা এলাকা ত্যাগ করেন বলে জানান স্থানীয়রা।
আইন যা বলছে বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীতীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন দেশের প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
বাংলাদেশের বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী নদী, খাল, কৃষিজমি বা জনবসতির ক্ষতি হয় এমনভাবে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ইটভাটায় ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কাঠ পুড়িয়ে ইটভাটা পরিচালনাও বেআইনি। পরিবেশের ক্ষতি, নদীভাঙন ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, অবৈধ মাটি কাটা ও অপরিকল্পিত ইটভাটার কারণে নদীতীরবর্তী জনপদ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে চাবুয়া গ্রামের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে
রিপোর্টার্স২৪/মিতু