স্টাফ রিপোর্টার: ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। রবিবার (১৭ মে) বিকেলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মানবিক উদ্যোগ হিসেবে বিনা খরচে কারিনার মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। প্রথমে অন্য একটি এয়ারলাইনসের মাধ্যমে মরদেহ আনার চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হয়নি। পরে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
জানা গেছে, এদিন বিকেল ৫টায় তার মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। সেখান থেকে কারিনার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তাদের বনানী ডিওএইচএসের বাসায়।
কারিনার বাবা কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, সোমবার মরদেহ নেওয়া হবে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নানার বাড়িতে। সেখানেই দাফন করা হবে তাকে।
তবে মরদেহ দেশে আনার পর পরই জানাজার ব্যবস্থা করা হয়। রাজধানীর বনানী মাঠে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। রাত সাড়ে ৮টায় বনানী দরবার শরিফ মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
লিভারজনিত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাকে ভারতের চেন্নাই নেওয়া হয়। ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার গভীর রাতে মৃত্যু হয় তার। এর আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে এক সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন কারিনা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে স্থানান্তর করা হয়।
‘এ’ লেভেল শেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়ার আগে একটি গণমাধ্যমের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেছিলেন কারিনা কায়সার। দেশে ফিরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পরে অভিনয় ও চিত্রনাট্য রচনাতেও যুক্ত হন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। মূলত তিনি আলোচনায় আসেন ২০২৪ সালের আন্দোলনে গণভবন লুটের সময় ল্যাপটপসহ কিছু মালামাল লুটের দাবি জানিয়ে। সেসময় সামাজিক মাধ্যমে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনার ল্যাপটপ লুটের কথা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব