আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে ইরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের কঠোর জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে রোববার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তেহরানকে কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক বা সামরিক ছাড় দিতে রাজি হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত চুক্তিতে না এলে ইরানকে কঠোর পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ দফার একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। এতে ইরানকে শুধু একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখার অনুমতি, সব উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদের বড় অংশ ছাড়ের দাবি নাকচ করার কথা বলা হয়েছে। ইরান এসব শর্তে সন্তুষ্ট নয় বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে তেহরান বলছে, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, বিদেশে জব্দ থাকা সম্পদ ফেরত এবং সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। তারা হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি ড্রোন হামলার খবরও সামনে এসেছে। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।
এদিকে কাতার ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরান ইস্যুতে জরুরি ফোনালাপ করেছেন। পাকিস্তানও দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, নতুন আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের সুযোগ আছে। ইরানে সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কূটনৈতিক সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি