স্টাফ রিপোর্টার: প্রতারণার একটি মামলায় ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাওয়া দুই নারী আসামির একজন প্রকৃত আসামি নন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাদীপক্ষের দাবি, বড় বোনের বদলে ছোট বোন আদালতে হাজির হয়ে কারাগারে গেছেন। ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার উত্তরা পূর্ব থানার প্রতারণা মামলায় শারমিন আক্তার একা ও লাইলী শাহনাজ খুশি নামে দুই নারী আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর বৃহস্পতিবার একার রিমান্ড শুনানিকালে বাদীপক্ষ দাবি করে, কাঠগড়ায় উপস্থিত নারী প্রকৃত আসামি নন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালতে এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
বাদীপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতকে জানানো হয়, বোরকা ও নেকাব পরিহিত ওই নারী আসামি শারমিন আক্তার একা নন। পরে বিচারক তাকে মুখ দেখানোর নির্দেশ দেন। এ সময় তার চেহারার সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ছবির মিল পাওয়া যায়নি বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বাদী ব্যবসায়ী আজিজুল আলম দাবি করেন, আমি শতভাগ নিশ্চিত, যাকে আসামি করেছি তিনি এই নারী নন। এটি একার ছোট বোন। আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
বাদীর বন্ধু বাদল আহম্মেদ বলেন, কাঠগড়ায় থাকা নারীর শারীরিক গঠন দেখে সন্দেহ হয়। পরে আদালত পরিচয়পত্রের ছবির সঙ্গে মিল না পাওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী রাজু আহম্মেদ রাজিব মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেছেন। রোববার আদালতে দেওয়া আবেদনে তিনি বলেন, আত্মসমর্পণের সময় দুই নারী বোরকা-নেকাব পরিহিত থাকায় সরল বিশ্বাসে তাদের আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল। পরে তিনি বুঝতে পারেন, আসামিরা তাকে বিভ্রান্ত করেছেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আতিকুর রহমান জানান, আদালত আইনজীবীর আবেদন নথিভুক্ত করেছেন। সোমবার একার রিমান্ড বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার এসআই মাহবুবুল আলম বলেন, একজনের বদলে আরেকজন কারাগারে গেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাচীন পিলার ও অলৌকিক সম্পদের প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র ব্যবসায়ী আজিজুল আলমের কাছ থেকে প্রায় ২০ কোটি টাকা ও বিপুল পরিমাণ জমি হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ২৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্তরা ‘কুফরি কালাম’, ‘জ্বিনের বাদশা’ ও অলৌকিক ক্ষমতার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার ও জমি লিখে নেয়। মামলায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি