প্রিন্ট এর তারিখঃ | বঙ্গাব্দ || প্রকাশের তারিখঃ 18-05-2026 ইং
সংবাদ শিরোনামঃ আসন্ন বাজেটে হার্টের রিং ও কিডনি যন্ত্রাংশে ভ্যাটমুক্তি
রিপোর্টার্স ডেস্ক: আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনস্বার্থ বিবেচনায় শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার বড় প্রস্তাব রেখেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে হার্টের রিংয়ের ভ্যাট মওকুফ ও কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সরঞ্জামে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ রাখা হয়েছে। ফলে আসন্ন অর্থবছরে জটিল এই রোগগুলোর চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে বলে জানা গেছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বড় ছাড় দিচ্ছে এনবিআর। হার্টের রিং সরবরাহের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ জোগানদার ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফ এবং আমদানিনির্ভর কিডনি ডায়ালাইসিস যন্ত্রাংশেও ভ্যাট অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে হৃদরোগী ও কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের বড় আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে আসবে।
দেশে হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং বা স্টেন্টের দাম বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও দেশভেদে ভিন্ন হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে হার্টের রিংয়ের সর্বনিম্ন দাম ১৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ এক লাখ ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সরকার নির্দিষ্ট কিছু রিংয়ের দাম পুনঃনির্ধারণ করে তিন হাজার থেকে ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিয়েছে। তবে মূল দামের সঙ্গে কর, ভ্যাট ও বিভিন্ন চার্জ বা কমিশন যুক্ত হওয়ায় সাধারণ রোগীদের ক্ষেত্রে রিংয়ের চূড়ান্ত দাম অনেক বেড়ে যায়। ফলে গরিব ও মধ্যবিত্তদের পক্ষে এই খরচ বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
দেশে প্রতি বছর অন্তত ৪৫ হাজার করোনারি স্টেন্টের প্রয়োজন হয়, যা নিবন্ধিত ৩১টি কোম্পানি আমদানি করে থাকে। এর মধ্যে মোট আমদানির ৫০ শতাংশই আসে বিখ্যাত তিন ব্র্যান্ড— অ্যাবট, বোস্টন সায়েন্টিফিক ও মেডট্রনিক থেকে। বর্তমানে এই রিং হাসপাতালে সরবরাহ করার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ‘যোগানদার ভ্যাট’ প্রযোজ্য রয়েছে। গরিব, অসহায় ও মধ্যবিত্ত রোগীদের আর্থিক স্বস্তি দিতে আগামী বাজেটে রিং সরবরাহের ওপর থেকে এই ১০ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।