স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলাদেশের ক্রিকেটে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়ের নাম এখন মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড গড়েছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। তবে ব্যক্তিগত মাইলফলকের উচ্ছ্বাসের মাঝেই আউট হওয়ার পর দেখা যায় তার হতাশার বহিঃপ্রকাশ।
সোমবার সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে শতক পূর্ণ করেন মুশফিক। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি। এর মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে যান মুমিনুল হককে, যার টেস্ট সেঞ্চুরি সংখ্যা ১৩। এখন বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক মুশফিক এককভাবেই।
শুধু তাই নয়, এদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের জন্য এটিই প্রথম এমন অর্জন। তিন সংস্করণ মিলিয়ে মুশফিকের সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন ২৩। তার ওপরে আছেন কেবল তামিম ইকবাল, যার সেঞ্চুরি ২৫টি।
সেঞ্চুরির পর বাংলাদেশ দ্রুত রান তোলার কৌশল নেয়। ড্রেসিংরুম থেকে একাধিকবার বার্তা পাঠানো হয় টেলএন্ডারদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত নিজেও মাঠে নেমে নাঈম হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাইজুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ দ্রুত রান তুলতে গিয়ে আউট হন।
নাহিদ রানাকে সঙ্গে নিয়ে শেষ জুটিতে মাত্র ৮ বল টিকেছিলেন মুশফিক। সাজিদ খানের বলে ডিপ মিড উইকেটে বড় শট খেলতে গিয়ে ১৩৭ রানে বিদায় নেন তিনি। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে বাউন্ডারি লাইন পার হওয়ার পর হঠাৎ হাতে থাকা হেলমেট পায়ে লাথি মারতে দেখা যায় তাকে। মুহূর্তের সেই প্রতিক্রিয়ায় মাঠে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তবে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন সতীর্থ তাইজুল ইসলাম। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, স্কোরবোর্ডে যদি আরও ২০-৩০-৪০ রান যোগ করা যেত, তাহলে ভালো হতো। সব সময় সব কিছু শতভাগ হয় না। এমন হতাশা আসতেই পারে।
মুশফিককে দলে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবেও উল্লেখ করেন তাইজুল। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক একজন ক্রিকেটার। সিনিয়র কারও সঙ্গে ব্যাট করলে অনেক কিছু শেখা যায়। উনি আমাকে অনেক তথ্য দিচ্ছিলেন। অভিজ্ঞ কারও সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করলে বিষয়গুলো বুঝতে সহজ হয়।
চারশ রানের বেশি লিড নেওয়ার পরও বাংলাদেশ আরও ব্যাটিং করতে চেয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তাইজুল বলেন, এটা চতুর্থ ইনিংস হলেও উইকেট এখনও ভালো। টার্গেট বড় হলে প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হয়। তবে উইকেট যেমন ভালো আছে, আমাদেরও শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে হবে। ম্যাচ এখনও ফিফটি-ফিফটি অবস্থায় আছে।
৩৯ বছর বয়সেও মুশফিকুর রহিম যেন থামার নামই জানেন না। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটে তার গুরুত্ব কতটা গভীর। একইদিনে বাংলাদেশের হয়ে দুইটি ইতিহাস গড়লেন মুশফিক। এই মুশফিককে থামানোর সাধ্য কার!
রিপোর্টার্স২৪/বাবি