আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত বিজেপি সরকার ধর্মভিত্তিক সব সরকারি ভাতা ও সহায়তা কর্মসূচি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার গঠনের মাত্র নয় দিনের মাথায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সোমবার (১৮ মে) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, চলতি মাস পর্যন্ত বিদ্যমান ভাতা কার্যক্রম চালু থাকবে। আগামী ১ জুন থেকে ধর্মের ভিত্তিতে পরিচালিত সব ধরনের সরকারি অনুদান ও ভাতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীনে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত সব সহায়তা প্রকল্প বন্ধ করা হচ্ছে। চলতি মাস পর্যন্ত বর্তমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে, তবে আগামী মাস থেকে তা পুরোপুরি বাতিল হবে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই বিস্তারিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ‘সংকল্প পত্রে’ ভাতা নয়, ভাতার বদলে কর্মসংস্থান– এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। দলটি দীর্ঘদিন ধরেই এসব ভাতাকে “মুসলিম তোষণনীতি” হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছিল এবং দাবি করছিল, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এসব কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইমাম ও হিন্দু পুরোহিতদের মাসিক ভাতা ৫০০ রুপি বাড়ায়। ফলে ইমামদের মাসিক সম্মানী ২ হাজার ৫০০ রুপি থেকে বেড়ে ৩ হাজার রুপিতে উন্নীত হয়। একইভাবে পুরোহিতদের ভাতা ১ হাজার রুপি থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ রুপি করা হয়। আজানদাতাদের (মুয়াজ্জিন) ভাতাও পুরোহিতদের সমপরিমাণ, অর্থাৎ মাসে ১ হাজার ৫০০ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতা চালুর প্রায় আট বছর পর, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে হিন্দু পুরোহিতদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করে মমতা সরকার। সে সময় হিন্দু উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ হাজার, যেখানে ইমামের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৫ হাজার। এছাড়া পুরোহিতদের ভাতা ছিল ইমামদের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি