স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ প্ল্যাটফর্ম গুগল তাদের সার্চ ব্যবস্থায় আনছে বড় ধরনের পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে কোনো তথ্য খুঁজলে ব্যবহারকারীদের সামনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংক দেখানো হলেও এখন সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে সরাসরি উত্তর, কথোপকথনের মতো তথ্য আদান-প্রদান এবং ব্যবহারকারীর চাহিদাভিত্তিক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দেখাবে গুগল।
যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত গুগলের বার্ষিক প্রযুক্তি সম্মেলনে নতুন এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, গত ২৫ বছরে গুগল সার্চে এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আগের তুলনায় আরও বড় ও জটিল প্রশ্ন লিখতে পারবেন। গুগল শুধু বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিংক দেখিয়ে থেমে থাকবে না, বরং নিজেই তথ্য বিশ্লেষণ করে সংক্ষিপ্ত ও নির্ভুল উত্তর উপস্থাপন করবে। একই বিষয়ে ব্যবহারকারী চাইলে ধারাবাহিক প্রশ্নও করতে পারবেন, ঠিক যেন একজন মানুষের সঙ্গে কথোপকথন চলছে।
গুগল জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় থাকবে বিশেষ ধরনের স্বয়ংক্রিয় তথ্য সহকারী। এই সহকারী ব্যবহারকারীর হয়ে ইন্টারনেটে তথ্য খুঁজবে এবং নির্দিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত নজরদারিও করবে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কেউ চাইলে বাজার পরিস্থিতি, পণ্যের মূল্য পরিবর্তন কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের আপডেট পর্যবেক্ষণের জন্য এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। নতুন কোনো তথ্য বা পরিবর্তন ঘটলে সেটি ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এছাড়া ব্যবহারকারীদের জন্য আরও একটি নতুন সুবিধা আনছে গুগল। এর মাধ্যমে যে কেউ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট আকারের ডিজিটাল সেবা বা অ্যাপ তৈরি করতে পারবেন। খাবারের তালিকা তৈরি, ব্যক্তিগত ব্যায়াম পরিকল্পনা সাজানো কিংবা দৈনন্দিন সময়সূচি ব্যবস্থাপনার মতো কাজেও এটি ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, গুগলের এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ওপর। কারণ এতদিন তথ্য জানতে ব্যবহারকারীরা সরাসরি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতেন। কিন্তু এখন গুগল নিজেই যদি অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর দেখিয়ে দেয়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীর আলাদা করে কোনো ওয়েবসাইটে যাওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। এতে ওয়েবসাইটগুলোর ভিজিটর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সার্চ ইঞ্জিনের জন্য লেখা সাধারণ কনটেন্ট ভবিষ্যতে আগের মতো কার্যকর নাও থাকতে পারে। বরং মৌলিক সংবাদ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য, ভিডিওভিত্তিক কনটেন্ট এবং নিজস্ব বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনার গুরুত্ব আরও বাড়বে।
বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর বড় একটি অংশ এখনো গুগল থেকে আসা দর্শকের ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে সংবাদমাধ্যমগুলোকে এখন থেকেই নতুন কৌশল নিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিজস্ব পাঠকগোষ্ঠী তৈরি, মানসম্মত ও ব্যতিক্রমধর্মী কনটেন্ট প্রকাশ এবং সরাসরি দর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর দিকেই গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই নতুন সার্চ যুগ শুধু তথ্য খোঁজার পদ্ধতিই বদলাবে না, বরং পুরো ডিজিটাল সংবাদ ও কনটেন্ট ইকোসিস্টেমে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম