চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম; কর্ণফুলী উপজেলায় ফকিরনির হাটে টানা পাঁচ দিন অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন বসা এই পশুর হাটে এবার টানা পাঁচ দিনের অনুমতি দেওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাশের বিভিন্ন হাটের ইজারাদাররা।
ইতিমধ্যে মইজ্জ্যারটেক, কলেজে বাজার ও ফাজিল খাঁর হাট পশুর বাজারের ইজারাদাররা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, পাকিস্তান আমল থেকে কর্ণফুলীর বড়উঠান ইউনিয়নের ফকিরনির হাট প্রতি সপ্তাহে রোববার ও বুধবার বসে আসছে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই নিয়ম অনুসারে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চলতি বছরও প্রথমে সপ্তাহে দুই দিনের জন্য হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়।
গত ২৭ এপ্রিল জারি করা এক সরকারি চিঠিতে ৩ মে, ২৪ মে এবং পরবর্তী সপ্তাহে ২৭ মে কোরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে ২৯ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রামের উপপরিচালক গোলাম মাইনউদ্দিন হাসান স্বাক্ষরিত আরেকটি স্মারকে ফকিরনির হাটে ঈদুল আজাহার আগের শেষ পাঁচ দিন, অর্থাৎ ২৩ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত টানা অস্থায়ী পশুর হাট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়।
এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই পাশের অন্যান্য হাটের ইজারাদাররা বেকায়দায় পড়েন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফকিরনির হাট সংলগ্ন দুটি ব্যক্তি মালিকানাধীন খালি জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমতিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঈদুল আজহার পূর্ববর্তী শেষ পাঁচ দিন সেখানে পশুর হাট পরিচালনা করা যাবে।
কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক পশুর হাটের ইজারাদার মো. আলমগীর জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছে তিনি লিখিত আবেদন দিয়ে অভিযোগ করেছেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে ফকিরনির হাটকে টানা পাঁচ দিনের অনুমতি দেওয়ায় তাদের বাজার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বৈধ প্রক্রিয়ায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছি। এখন নিয়ম পরিবর্তন করে অন্য বাজারকে বাড়তি সুবিধা দিলে তা আমাদের জন্য অন্যায্য হবে।
অন্যদিকে ফকিরনির হাটের ইজারাদার মো. রাজু আহমেদ ঈদুল আযহা উপলক্ষে অতিরিক্ত তিন দিনের জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের সুপারিশের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন টানা পাঁচ দিনের অনুমতি দেয় বলে জানা গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব