ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র কূটনৈতিক আক্রমণ চালিয়েছে ভারত। জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের মন্তব্যের জবাবে নয়াদিল্লি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর ভয়াবহতা এবং আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দেশটিকে ‘গণহত্যা ও সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাসে কলঙ্কিত রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ‘সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা’ শীর্ষক বার্ষিক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতানেনি। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিনিধি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, বিশেষ করে জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে তার জবাবে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, পাকিস্তানের মতো একটি দেশ, যারা নিজেদের জনগণের ওপর বোমা বর্ষণ করে এবং পদ্ধতিগত গণহত্যা চালায়, তাদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়।
বক্তব্যে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর পরিচালিত ভয়াবহ দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন হরিশ পর্বতানেনি। তিনি বলেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীনতাকামী আন্দোলন দমন করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে যে অভিযান পরিচালনা করেছিল, সেখানে লাখ লাখ নারীকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের সহিংস ও অমানবিক চরিত্র নতুন কিছু নয়; বরং এটি বহু দশকের পুরোনো বাস্তবতা।
একই সঙ্গে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার ঘটনাও জাতিসংঘে তুলে ধরে ভারত। হরিশ পর্বতানেনি অভিযোগ করেন, চলতি বছরের মার্চ মাসে পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল-এ একটি মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে বিমান হামলা চালায়।
তার দাবি, জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এর তথ্য অনুযায়ী ওই হামলায় ২৬৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১২২ জন আহত হন।
ভারতীয় রাষ্ট্রদূত আরও জানান, পাকিস্তানের সীমান্তপারের সহিংসতার কারণে ৯৪ হাজারের বেশি আফগান নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া বেসামরিক হতাহতের ৯৫টি ঘটনার মধ্যে ৯৪টির জন্য পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী দায়ী বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পাকিস্তানের সমালোচনা করে হরিশ পর্বতানেনি বলেন, “অন্ধকারের মধ্যে নিরীহ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের কথা বলা চরম ভণ্ডামি।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বাস, আইন ও নৈতিকতাহীন পাকিস্তান নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে বছরের পর বছর ধরে দেশের ভেতরে ও বাইরে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। এখন বিশ্ববাসী তাদের এই মিথ্যা প্রচারণার প্রকৃত রূপ দেখতে পাচ্ছে।”
জাতিসংঘের মঞ্চে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন নয়। তবে এবার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন গণহত্যার প্রসঙ্গ আন্তর্জাতিক পরিসরে পুনরায় জোরালোভাবে তুলে ধরায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
রিপোর্টার্স২৪/ ঝুম