নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছীতে আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঈদুল আজহার ভিজিএফ খাদ্যশস্য (চাল) জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়। তবে ঘটনার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার ভিজিএফ চাল বিতরণের সরকারি তালিকায় যাদের নাম নেই, তাদের নামেও কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রকৃত উপকারভোগীদের অনুপস্থিতিতে অন্য ব্যক্তিদের দিয়ে ভুয়া টিপসই ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে চাল উত্তোলন করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রত্যক্ষ নির্দেশ ও যোগসাজশে এই জালিয়াতি সংঘটিত হচ্ছে।
চাল বিতরণ কেন্দ্রে উপস্থিত সচেতন নাগরিক ও বঞ্চিত স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে প্রকৃত অভাবী মানুষ এক বস্তা চালের জন্য হাহাকার করছেন, সেখানে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় একেকজন ব্যক্তি দুই থেকে তিনটি করে কার্ড পেয়েছেন। কার্ড বিতরণে অনিয়মের কারণে ইউনিয়নের বহু দরিদ্র ও দুস্থ পরিবার সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হলেও এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ দেখা যায়নি। প্রশাসনের এ নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
চাল নিতে আসা সন্ধ্যা রানী নামে এক নারী জানান, মাজেদ নামের এক ব্যক্তি তাকে কার্ড দিয়েছেন। মাস্টাররোলে তার নাম রয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। একই অবস্থা চাল নিতে আসা মজিদ ও হাবিল হোসেনের। চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দেওয়া কার্ড নিয়ে তারা চাল তুলতে এসেছেন, তবে তালিকায় তাদের নাম আছে কি না বা কেন অন্যের নামে টিপসই দিচ্ছেন, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি চাল নিয়ে এই ধরনের জালিয়াতি ও গরিবের হক আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
বদলগাছী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আশরাফুল নয়ন বলেন, আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এর আগেও ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। চেয়ারম্যান তখন ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এরপরও বারবার তার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠছে। তিনি প্রশাসনের কাছে পুনরায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আহসানুল মাহমুদ বলেন, ঈদ উপলক্ষে এবার নতুন মাস্টাররোল তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনিকভাবে কোনো কার্ড বিতরণ করা হয়নি। চেয়ারম্যান ও মেম্বাররাই কার্ড বিতরণ করেছেন। কারা তালিকাভুক্ত, তা তারাই ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে জানতে আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম রেজাউল কবির পল্টনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।