মেলান্দহ প্রতিনিধি : মেলান্দহ উপজেলার ৩ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের খাশিমারা ও রোকনাইপাড়া গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর শাখা উর্মা নদীর ওপর নির্মিত উর্মা ব্রিজটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিজ নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই এর পশ্চিম পাশের গোড়া থেকে মাটি সরে গিয়ে সড়কের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
এলাকাবাসী আরও জানান, পরের বছর চলাচলের সুবিধার্থে ব্রিজের গোড়া থেকে রাস্তা পর্যন্ত প্রায় ৩০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী বছরের ভয়াবহ বন্যায় ব্রিজের এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মেলান্দহ উপজেলার ৩ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়নের নলছিয়া, খাশিমারা, বানাবান্দা, আদবাড়িয়া এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর কড়ইচূড়া ইউনিয়নের পূর্ব নলছিয়া, বিনোদটঙ্গী, ঝাড়কাটা, মোমেনাবাদ ও লালডুবাসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ২৫ হাজার মানুষের মেলান্দহ ও জেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক এটি।
ব্রিজটির বেহাল অবস্থার কারণে মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। খাশিমারা ও রোকনাইপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় বর্ষাকালে তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। এছাড়া কোনো মুমূর্ষু রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে নেওয়াও সম্ভব হয় না।
পশ্চিম জামালপুরের কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এসব এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাটবাজারে নিতে না পারায় কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে খাশিমারা ও রোকনাইপাড়া গ্রামের মধ্যবর্তী উর্মা নদীর ওপর দ্রুত একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ এখন এলাকাবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শুভাশিস রায় বলেন, পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মেলান্দহ উপজেলাধীন উর্মা নদীর ওপর ব্রিজ পুনর্নির্মাণের জন্য ডিজাইন ও ড্রয়িং তৈরি করে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন