স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটির প্রথম ও ট্রেনযাত্রার তৃতীয় দিনে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে (কমলাপুর) ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে ঈদযাত্রার এই চিরচেনা ব্যস্ততার মাঝেই বাঁধ সেধেছে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়। উত্তরাঞ্চলগামীসহ পাঁচটি ট্রেনের শিডিউল এলোমেলো হয়ে পড়ায় প্ল্যাটফর্মে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
রেল কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশনাল ডিলে’ এবং রেললাইনের ওপর স্থানীয়দের খড় শুকানোর কারণে ট্রেনের গতি কমে যাওয়াকে দায়ী করলেও যাত্রীরা প্রকাশ করেছেন তীব্র অসন্তোষ।
সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনের প্রবেশমুখ থেকেই যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে কয়েক ধাপে টিকিট যাচাই করা হলেও প্ল্যাটফর্মে ঢুকেই দেখা যায় উদ্বিগ্ন মানুষের অপেক্ষা। কেউ শিডিউল বোর্ডের দিকে তাকিয়ে আছেন, কেউ ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, আবার কেউ প্ল্যাটফর্মেই বসে সময় পার করছেন। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি। নির্ধারিত সময় পার হলেও অনেক ট্রেন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছায়নি।
রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী তানভীর আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছি। ট্রেন কখন আসবে, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। দেড় ঘণ্টা দেরির কথা বলছে, কিন্তু মনে হচ্ছে আরও বেশি লাগবে।
নীলসাগর এক্সপ্রেসের আরেক যাত্রী সাইফুল আলম বলেন, ঈদের সময় পরিবার নিয়ে যাত্রা করছি। ছোট বাচ্চা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা খুব কষ্টকর। সময়মতো ট্রেন ছাড়লে এত ভোগান্তি হতো না।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে প্রায় ১৫টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো চললেও কয়েকটি ট্রেনের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়।
সকাল ৬টার ধূমকেতু এক্সপ্রেস প্রায় আধাঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যায়। নীলসাগর এক্সপ্রেসও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে স্টেশন ত্যাগ করে। রংপুর এক্সপ্রেস ও তিতাস কমিউটার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্ল্যাটফর্ম ছাড়তে পারেনি। এছাড়া একতা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের পরও স্টেশনে এসে পৌঁছায়নি বলে জানান যাত্রীরা।
কমলাপুর স্টেশন সূত্র বলছে, আজ স্টেশন থেকে মোট ৬৭টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি আন্তঃনগর ট্রেন এবং বাকিগুলো মেইল ও কমিউটার ট্রেন।
ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন বলেন, অধিকাংশ ট্রেনই সময়মতো চলাচল করছে। তবে কিছু ট্রেন অপারেশনাল কারণে বিলম্বিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রেললাইনের ওপর খড় শুকানোর কারণে ট্রেনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সময়সূচিতে।
তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব