নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রায় দূরপাল্লার বাসগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা এটিকে অতিরিক্ত ভাড়া বলতে নারাজ। তাদের দাবি, এটি ‘ঈদ বকশিস’।
সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। এ সময় অপেক্ষমাণ যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবহন নিয়মিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে।
নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, শিমরাইল ও কাঁচপুর এলাকার বিভিন্ন কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই টিকিট বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। যাত্রীচাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু পরিবহনে ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগও ওঠে।
তবে কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা দাবি করেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কিছু ক্ষেত্রে ভাড়া সামান্য বাড়তি হতে পারে। ঈদ উপলক্ষে আলাদাভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়নি।
যদিও যাত্রীরা বলছেন, অনেক পরিবহনে ‘ঈদ বকশিস’ নামে অতিরিক্ত ১০০ টাকা বা তারও বেশি আদায় করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বাস কাউন্টারের এক কর্মচারী বলেন, “ভাড়া বেশি নেই না মামা। ঈদে বকশিসের জন্য ১০০ টাকা বেশি চাই। অনেকে খুশি হয়ে দেয়, অনেকে দেয় না।”
অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েও স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন যাত্রীরা। দুপুরে বৃষ্টি শুরু হলে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। পর্যাপ্ত যাত্রীছাউনি না থাকায় অনেকে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করেন। নির্ধারিত সময়ে বাস না আসা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। কেউ কেউ জানান, কিছু বাস এক ঘণ্টারও বেশি দেরিতে পৌঁছাচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাজধানীতে পশুর হাটকেন্দ্রিক যানজটের কারণে বাস চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে।
শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে প্রায় আড়াই হাজার ছোট-বড় শিল্পকারখানা রয়েছে। ধাপে ধাপে কারখানা ছুটি দেওয়ায় এখন থেকেই ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে।
ফতুল্লার তুষারধারা এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মোনতাহার হোসেন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে লক্ষ্মীপুরে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তিনি বলেন, “পাঁচদিন আগে যে টিকিট ৫০০ টাকায় ছিল, এখন সেটি ৬০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। ঈদে তো বাড়ি যেতেই হবে, তাই বাধ্য হয়েই কিনেছি।”
নোয়াখালীগামী যাত্রী নাজমুল বলেন, “বাড়তি ভাড়া দিয়েও সময়মতো গাড়ি পাচ্ছি না। বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।”
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বাড়তি নজরদারির কথা জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। পাশাপাশি জেলা পুলিশ, আনসার, র্যাব ও বিজিবিও নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. সোহেল রানা জানান, সাইনবোর্ড, মেঘনাঘাট, কাঁচপুর, তারাবো ও কাঞ্চন এলাকায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে, যাতে ঈদে ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন।”
রিপোর্টার্স২৪/মিতু