বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখকে কোস্ট গার্ড পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ তুলে তার সন্ধানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিরাজের বোন লিজা ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় জয়মনি ঠোটার একটি চায়ের দোকান থেকে দুইজন সিভিল পোশাকধারী কোস্ট গার্ড সদস্য মিরাজ শেখকে আটক করে হাড়বাড়িয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনে নিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সেখানে মিরাজকে মারধরের পর মোংলার দিক থেকে আসা “বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড” লেখা একটি স্পিডবোটে থাকা ৭-৮ জন ইউনিফর্ম পরিহিত সদস্য তার ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তাকে নিয়ে চলে যায়। ঘটনাটি স্থানীয় গ্রামবাসী ও মিরাজের স্ত্রীর সামনেই ঘটে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, মিরাজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি প্রথমে স্থানীয় দোকানদার আল আমিনের জিম্মায় রেখে গেলেও ৮-১০ দিন পর গভীর রাতে দুইজন কোস্ট গার্ড সদস্য এসে সেটি নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত মিরাজ শেখের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজ মিরাজের মা তাসলিমা বেগম ও স্ত্রী মুক্তা বেগম। সন্তানের শোকে বারবার আহাজারি করতে থাকেন মা তাসলিমা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে যদি কোস্ট গার্ড মেরে ফেলে থাকে, অন্তত তার লাশটা যেন আমাদের দেয়।” এ সময় মিরাজের তিন বছরের সন্তানও সেখানে উপস্থিত ছিল।
পরিবারের দাবি, দেড় মাস পার হলেও কোস্ট গার্ড এখনো মিরাজকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়নি।
লিজা ইসলাম দাবি করেন, ১০ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত হাড়বাড়িয়া কোস্ট গার্ড স্টেশনের এক সদস্যের সঙ্গে তাদের একাধিকবার কথা হয় এবং তিনি মিরাজ তাদের হেফাজতে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে পরবর্তীতে দিগরাজ কোস্ট গার্ড বেইজ থেকে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।
তিনি বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মিরাজ শেখের সন্ধান নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন জানান, নিখোঁজের বিষয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে কোনো তথ্য নেই। তুলে নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন