সিলেট প্রতিনিধি: দেশের চামড়া খাতকে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি শিল্পে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে চামড়া শিল্পে নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের সময় যেসব ট্যানারি সঠিকভাবে স্থানান্তর সম্পন্ন করতে পারেনি কিংবা ব্যবসা শুরু করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নের মাধ্যমে আবারও সচল করা হবে।
তিনি জানান, চামড়া শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে।
সাভারে অবস্থিত সেন্ট্রাল এফলুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (সিইটিপি) কার্যকারিতা বাড়াতে বিশ্বব্যাংক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নর সহায়তায় ইতালির একটি কোম্পানি সমীক্ষা চালাচ্ছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের দুই সপ্তাহ পর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, প্রকল্পটির দৈনিক পরিশোধন সক্ষমতা ২৫ হাজার কিউবিক মিটার হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ১৪ থেকে ১৭ হাজার কিউবিক মিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই সক্ষমতা পূর্ণমাত্রায় উন্নীত করার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
সিলেট থেকে চামড়া পাচার হয় না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সংরক্ষণ ও লজিস্টিক সমস্যার সমাধান করা গেলে চামড়া খাত আরও বড় শিল্পে পরিণত হবে।
তিনি আরও বলেন, সাভারে কোরবানির ঈদের সময় অতিরিক্ত চাপ এড়াতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে ১০ থেকে ১৫ দিন এমনকি এক মাস পরও চামড়া পাঠানো সম্ভব হবে এবং সারা বছর এসব চামড়া ব্যবহার করা যাবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মো. সারওয়ার আলম, রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ চামড়া ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।