ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ওমান উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও মাইন স্থাপনকারী নৌযান লক্ষ্য করে তারা আত্মরক্ষামূলক অভিযান চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, ওই এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সামরিক বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইরানি বাহিনী।
অন্যদিকে ইরান এই হামলাকে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে এবং কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, এটি ছিল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, এফ-২২ যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ব্যবহার করে দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস ও লারক দ্বীপের আশপাশে অভিযান চালানো হয়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে নৌপথে মাইন বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল, যা প্রতিহত করা হয়েছে।
হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপের জবাব যথাসময়ে দেওয়া হবে। দেশটির গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যরা হতাহত হয়েছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, আক্রমণ অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে নিরাপদ অবস্থানে থাকতে পারবে না।
এদিকে কাতার ও ওমানে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই এই সামরিক উত্তেজনা নতুন জটিলতা তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়তে শুরু করেছে, তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা চলছে, তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে এখনো বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে যাতে একাধিক দেশ ও গোষ্ঠী জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম