স্টাফ রিপোর্টার: চামড়া ক্রয়ে ধীরগতি পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনে সরকার ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
প্রান্তিক চামড়া সংগ্রহকারীরা যাতে ন্যায্য মূল্যে পায়, সেজন্য সরকারের নজরদারি থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করবে সরকার। চামড়া ক্রয়ে ধীরে গতি পরিলক্ষিত হলে প্রয়োজনে সরকার ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেবে।’
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে সিলেটের চা-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো চামড়ার সঠিক সংরক্ষণ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি। এছাড়া আগামীর বাজেট ব্যাবসাবান্ধব পরিবেশ, বিনিয়োগ আকর্ষণ ধারার সূচনা করবে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী।
সভায় মন্ত্রী জানান, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার বা সিইটিপির কার্যকারিতা ও সক্ষমতা নিয়ে ইতালির একটি প্রতিষ্ঠান গবেষণা করছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সিইটিপির পরিকল্পিত পরিশোধন সক্ষমতা প্রতিদিন ২৫ হাজার ঘনমিটার হলেও বর্তমানে তা ১৪ থেকে ১৭ হাজার ঘনমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই সক্ষমতাকে পূর্ণমাত্রায় উন্নীত করার পাশাপাশি ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের সময় যেসব ট্যানারি সঠিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি, সেগুলোর মধ্যে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনে নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদেরও চামড়া খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।
চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, কোরবানি আত্মত্যাগের শিক্ষা দেয়। তাই কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণেও সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশের ট্যানারি ও কারখানাগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী স্বল্প সময়ে সব চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব নয়। ফলে চামড়া নষ্ট হওয়া ঠেকাতে যথাযথ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ব্যবহার উপযোগী চামড়ার ন্যায্য মূল্য ব্যবসায়ীরা পাবেন বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী। অতীতে চামড়া খাতে যে সংকট ও অনিয়ম দেখা গেছে, তার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও জানান তিনি।
চামড়া থেকে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়ে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জাতীয় এই সম্পদ রক্ষায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা করবে সিটি করপোরেশন।
সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে এবার চামড়া পাচারের সুযোগ খুবই সীমিত জানিয়ে মন্ত্রী মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার চামড়া পাচারের তেমন সুযোগ নেই। দেশের সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে সংগঠিতভাবে চামড়া পাচারের সুযোগ খুবই সীমিত। তবে চামড়া খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। এই সমস্যা দূর করা গেলে শিল্পটি আরও বড় পরিসরে বিকশিত হবে। চামড়া শিল্পে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য।’
চামড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ চামড়া ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিসিক প্রশাসক জানান, চামড়া ব্যবসায়ী ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যাতে উপযুক্ত মূল্য পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ প্রয়োজনে সিটি করপোরেশন নিজেও চামড়া কিনবে।
চামড়া যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এবারের চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব