স্টাফ রিপোর্টার: ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি ও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় নিয়ে এক অভিনব ব্যাখ্যা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি উল্টো প্রশ্ন তুলেছেন, সময়মতো ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর কোনো যাত্রী যদি শেষ মুহূর্তে এসে উঠতে না পারেন, তবে সেই দায় কেন ট্রেন ব্যবস্থাপনার ওপর চাপানো হবে? একই সঙ্গে যাত্রীদের ‘অতি চালাকিকেও’ অব্যবস্থাপনার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেন তিনি।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেন্টার পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ঈদের ট্রেনে উঠতে না পারা যাত্রীদের ক্ষোভ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘গতকালও আপনারা দেখেছেন, কিছু যাত্রী আপনাদের ক্যামেরা দেখলেই একটা প্যানিক তৈরি করার চেষ্টা করেন। ট্রেন যখন ছেড়ে দেয়, তখন দরজা-জানালা দিয়ে অনেক লোক ঢোকার চেষ্টা করেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ভেতরে থাকা যাত্রীরা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য জানালা বন্ধ করে দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যিনি শেষ মুহূর্তে দৌড়ে গিয়ে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেছেন, দুই-তিনজন দরজায় নক করে বলছেন যে টিকিট কাটার পরও উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। এখন সময়মতো যদি ট্রেন ছেড়ে যায় আর আপনি যদি সেই সময়টা মিস করেন, ভেতর থেকে জানালা-দরজা আটকে দেওয়া হয়, তারপর আপনি উঠতে পারলেন না- এই দায় কি ট্রেন ব্যবস্থাপনাকে দেবেন, নাকি আপনার দেরি হওয়াকে দেবেন?’
রেলওয়ের ডিজিটাল টিকিট ব্যবস্থার ফাঁকফোকর এবং যাত্রীদের অনিয়ম নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্যও দেন রেলমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুসন্ধানে এসেছে, একটি টিকিট কাটার পর একজন যাত্রী মোবাইলের মাধ্যমে সেটি আরও পাঁচজনকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। পাঁচজনই গেটে এসে মোবাইলে দেখাচ্ছেন এবং বলছেন- ‘এটাই আমার টিকিট’। এখন টিকিট তো একজনের!’
রেলমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা যত নিয়ন্ত্রণ করতে চাই, কিছু সুবিধাভোগী মানুষ তত অপকৌশল নিচ্ছেন। এখন একটা টিকিট পাঁচজনকে পাঠালে সেখানে সঠিক ব্যক্তি কে, তা শনাক্ত করতে গেলে ট্রেন আরও দুই ঘণ্টা দেরি হয়ে যাবে। ফলে নকল টিকিটধারী হয়তো আগে উঠে চলে যাচ্ছেন, আর প্রকৃত যাত্রী টিকিট থাকার পরও সিট পাচ্ছেন না।’
যাত্রীদের এমন আচরণকে ‘অতি চালাকি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের কিছু কিছু সময়ের জন্য অনেক চালাকি থাকে। আমি এটাকে সম্মান করি। প্রয়োজনের কারণে হয়তো তিনি করছেন। কিন্তু এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসলে ব্যবস্থাপনাটা আরও ভালো হবে।’
লঞ্চ ও বাস টার্মিনালে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সিন্ডিকেট এবং সড়ক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী দাবি করেন, চন্দ্রায় কিছুটা ধীরগতি থাকলেও সামগ্রিক যাত্রা ‘স্মুথ’ বা সন্তোষজনক। সাত লেনের গাড়ি যখন দুই লেনে ঢোকে, তখন গতি কমাটাই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কিছুটা দার্শনিক ভঙ্গিতে বলেন, ঈদের সুযোগ নিয়ে কিছু বেশি টাকা নেওয়া যায় কি না- জাতি হিসেবে এই প্রবণতা আমাদের আছে। আড়ালে-আবডালে কিছু প্রবণতা আছে, কিন্তু মানুষের মননের যে দুর্বৃত্তায়ন, সেটাকে তো আপনি রাতারাতি পরিবর্তন করতে পারবেন না।’
তবে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে দাবি করে শেখ রবিউল আলম বলেন, যেখানেই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই জরিমানা ও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা নির্মোহভাবে আমাদের সামর্থ্যের শতভাগ দিয়ে ব্যবস্থাপনা করার চেষ্টা করছি। আমাদের সেই সুযোগটা দিন।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব