রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকায় যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং নির্মাণকাজের গতি মন্থর হওয়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ঈদের আগে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে বাতাসে ভাসমান ধুলাবালির পরিমাণও কমেছে। ফলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ঢাকার বাতাস আগের তুলনায় কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে দূষণ কমলেও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকা থেকে এখনো বের হতে পারেনি ঢাকা। আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানী ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ১০৭। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের ১২৭টি প্রধান শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান নবম।
একিউআই সূচক অনুযায়ী ঢাকার বর্তমান বায়ুর মান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য এ ধরনের বায়ু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনসাসা। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ২৭৩, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের কাছাকাছি হিসেবে বিবেচিত হয়।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ, যার একিউআই স্কোর ১৬৩। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো, যেখানে স্কোর ১৫৬। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ১৩৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং পাকিস্তানের লাহোর একই স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় এবং অনেক শিল্প ও নির্মাণ কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ায় বায়ুদূষণের মাত্রা সাময়িকভাবে কমে এসেছে। তবে স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য শুরু হলে দূষণের মাত্রা আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একিউআই মানদণ্ড অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০ স্কোরের মধ্যে থাকলে বায়ুর গুণমান ‘মাঝারি’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর হলে তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, একিউআই ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের বায়ু মানুষের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্র ও হৃদরোগের কারণ হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম